রণকেলি
গ্রামে আমার শ্বাশুড়ি মায়ের বাপের বাড়ি দর্শনঃ
২০০১ সালে ডাঃ নুরজাহান বেগম চৌধুরীর মামাতো ভাই আরবাব আহমদ চৌধুরী মদিনা হতে দেশে ফিরে আসেন। উত্তর রণকেলির টিলার উপর সুন্দর বাড়িটি ছিল এতদিন জনশূন্য। এবার দেশে ফিরে তিনি নানা অলংকারকর্ম করে আসাম প্যাটার্নের বাড়িটিকে রূপলাবণ্যে অপরূপ করে সাজান।
একদিন আরবাব ভাই বাসায় এসে এক দুপুরে রণকেলির বাড়িতে আমাদেরকে নিয়ে যেতে তার ফুফু মলিকা খাতুন চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানান। শ্বাশুড়ি মার কাছে তাঁর বাপের বাপের বাড়ির নানা মুখরোচক গল্প ও বাল্যস্মৃতি শুনতাম। শুনতাম খাসিখালের মাছ ধরার গল্প। তার বাপের বাড়ির দুই টিলার মাঝে থাকা প্রস্রবনের কাহিনী, যে প্রস্রবনের বালু চুষে বারমাস ভূগর্ভ থেকে অনবরত পরিস্কার পানি বের হত, সেই চাপকলহীন যুগে মানুষ এই পানি নির্দ্বিধায় পান করত। তিনি তাঁর বালিকাবেলার গৃহকর্মী বটই আলীর গল্প বললে আমরা এই গৃহকর্মীর হাস্যকর নামটা শুনে মনে মনে বেশ হাসতাম। মাঝে মাঝে তিনি প্রতিবেশী আত্মীয় একাত্তুরের শহিদ কর্নেল এম আর চৌধুরীর বাড়ির নানা কাহিনী শুনাতেন।
এই প্রথম আমি শ্বাশুড়ি মায়ের বাপের বাড়ি ছুটলাম। সামনের নীচের লেভেলে মসজিদ, পুকুর ও আমেরিকা প্রবাসী মামাতো দিনার ভাইয়ের বিশাল দাতব্য হাসপাতাল ও পশ্চিমা ডিজাইনের ঢালুছাদ বিশিষ্ট বাড়ি। কারে ফাস্ট গিয়ারে টিলা বেয়ে ধাপে ধাপে বাড়িঘর ফেলে অনেক উপরে উঠে শেষধাপে আরবাব ভাইয়ের ইংলিশ এম আকারের সুদীর্ঘ টিনের পাকাবাড়ি ও বাগানঘেরা আঙ্গিনা। ভাবী বাহাদুরপুরের চৌধুরী বংশের মেয়ে যিনি তার সুন্দর আচার ব্যবহারের জন্য বেশ সমুজ্জল।
আমাদের সাদা কারটি চালিয়ে নিয়ে যায় নতুন চালক ছোটভাই নিশাত কুরেশি। আসার সময় সে গোলাপগঞ্জ ঢুকার আগে একটি বেবিট্যাক্সিতে একটু লাগিয়ে দেয়। জরুরি তাড়া থাকায় আমরা তেমন কিছু হয়নি ভেবে দ্রুত সিলেটে চলে যাই। ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী রণকেলির জাতক, শ্বাশুড়ির প্রতিবেশী ভাইপো, তাঁর কাছে নালিশ আসে। অপরাধ কার জানিনা তবে তার অনুরোধে আমরা সাথে সাথে ১৫০০/- টাকা জরিমানা প্রদান করি।
আরবাব ভাইয়ের কন্যা ওয়াফা আরবাব চৌধুরীর জন্ম মদিনায়। পূবালী ব্যাংকে চাকুরিরত আমার এক ফুফুতো ভাতিজি সেফুর একমাত্র পুত্র তাহমিদ চৌধুরীর সাথে তার বিয়ে হয়। এই বিয়ের গায়েহলুদ অনুষ্ঠানে আবার ছুটে যাই এই রণকেলি টিলাবাড়ি। এখানে গিয়ে মামাতো ভাই হাসনাত চৌধুরী কুটি ও ইমরান চৌধুরী, মামাতো বোন লোকবা, খুশনা ও হুসনা আপা এবং তাদের পরিবারের সবার সাথে সেদিন মুলাকাত হয়। গভীর রাত পর্যন্ত নেচে গেয়ে সবাই বাড়ি মাত করেন। সিলেটের বাসায় যখন ফিরলাম, তখন মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন