ত্রিশ ডিসেম্বর ফেলে গেলাম, পূবালী নামের দেশ,
সুখদুঃখের ছয়ত্রিশ বছর এক পলকে শেষ।
ভাবিনি আমি তিনযুগ, রবো এই দেশে,
ভাগ্য আমায়, রাখল সেথায়, সাধারণের বেশে।
পূবালী আমার, বড় মায়ার, দোসরা পরিবার,
নয়নজলে বিদায় জানাই, সালাম বারে বার।
ইব্রাহিম খালেদ এমডি, দেশবরেণ্য জন,
হেলাল আহমদ চৌধুরী এমডি, জ্ঞানের ভুবন।
দুই তারকার আমল গেল ম্যানেজারি করে,
একটানে হই এজিএম, সফলতা ধরে।
শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থাপক পদক, পেলাম দুইবার,
একটা দাগও ফাইলে নাই, চেলেঞ্জ বারে বার।
বিদায় নেন ই এ চৌধুরী, চিরবসন্ত রবি,
ব্যাংক রত্নরা একে একে, হারিয়ে যান সবি।
স্বনামধন্য গুরুজনরা বিদায় নিলে ধীরে,
মোসাহেবরা তেলের জোরে চেয়ার দখল করে।
এমএসএস/ এমবিএ মোর, সাথে জিএসডিডি,
ন্যাড়ামাথার শিখর দখল, দেখলাম নিরবধি।
তেলের কদর বেড়ে গেলে যোগ্যতা যায় খসে,
চাপাবাজির পাহাড় তলে, পিষ্ট হলাম শেষে।
সপ্তবর্ষ কষ্টে গেল, ঢাকা মৌলইবাজার,
না পাইলাম ভালবাসা, কি লাভ হল আমার।
হাজার হাজার কোটি লাভ, সুদের কারবার,
জাহাজের খবরে খুশি, বেপারি আদার।
ব্যাংক হতে বিদায় নিল, সর্ব ন্যায়বিচার,
বিবি নির্দেশ ছাইপাঁশ, তেরবর্ষ, একই পদে পার।
অর্থদন্ড বিনা হত, পঁচিশ সালে, ব্যাংকে সুবিচার,
ব্যাংক রাজা এক ন্যাংটা ফকির, কৃপণ দুর্নিবার।
ডালপালা কেটে কসাই, সযতনে বানায় বনসাই,
যারে খুশি ডুবায়, ভাসায়, সাজায় ঘরজামাই।
আট সালে নিজের টাকা দিলাম ছাত্রঋণ,
শত তরুণ বিদেশ গেল, গরিব দীনহীন।
হেলাল আহমদ চৌধুরী, সুনাম সীমাহীন,
তাঁকে দিয়ে সাজিয়ে দিলাম, এসবি লিয়েন ঋণ।
হাজার বেকার বিদেশে যায়, আজো প্রতিদিন,
বর্ষে বর্ষে শতকোটি লাভ, হয়রে ঝুঁকিহীন।
লাখে লাখে সঞ্চয় আমার, নাইরে আমার ঋণ,
পূবালীর দুই শনিগ্রহ দুবার দেয়নি গাড়িঋণ।
খবর নিয়ে অবাক হলাম, দেখে ন্যায়বিচার,
নির্বাহীরা গাড়িঋণ নেয় একাই বারংবার।
মস্ত বড় অশ্বডিম্ব, উপহার, পেলাম প্রতিদান,
আপনা মাংসে হরিণা বৈরী, চর্যাপদের গান।
আমার নাকি আত্মীয়স্বজন পূবালী সরদার,
শত ধিক জানাই তাঁদের, শত শত বার।
তখতে বসে যে লোকেরা করে অবিচার,
তাদেরে আর, কুটুম বলার, কিবা দরকার।
বিষ খেয়ে বিষ হজম করে, চাকুরিজীবন পার,
পূবালী ভরা অবিচার, বিদায়বেলা জানাই ধিক্কার।
লেখার তারিখঃ ১লা জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
চৌধুরী ইসফাকুর রহমান কুরেশী, কবি, লেখক, ব্লগার, ইউটিউবার ও পূবালী ব্যাংকার
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন