শিলং শহরে কোন রেলপথ নেই। নর্থইস্টের সাত রাজ্যের লোকজন আসামের রাজধানী গৌহাটিতে এসে ট্রেনে উঠে চলে যান ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। তাই গৌহাটি নর্থইস্টকে ভারতবর্ষের সাথে যুক্ত করেছে। আমি ইতিমধ্যে শিলংয়ে ভারতীয় রেলওয়ের কাউন্টার হতে বিদেশী কোঠায় গৌহাটি হতে দিল্লির আনানবিহার স্টেশনের টিকেট সংগ্রহ করি। নর্থইস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়বে ৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ইং সকাল সাড়ে নয়টায়। গৌহাটি হতে দিল্লি ১৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্থা পার হবে ৩৬ ঘন্টায়। ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালের খাবার খেয়ে ধীরে সুস্থে শিলংয়ের গৌহাটি বাস টার্মিনালে চলে আসি। সুমো জিপ একটার পর একটা গৌহাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছে। একটি জিপের মধ্যভাগের তিন সিট জুড়ে বসলাম। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ রুপি। সকাল ১২টা নাগাদ বাস ছেড়ে দিল। জিপের ড্রাইভারের পিতামহ বৃটিশ আমলে নোয়াখালী জেলা হতে আসামে আসেন। আমরা বাংলাদেশের লোক জানতে পেরে তিনি খুব আদর যত্ন করেন। অভয় দিলেন, চিন্তার কারণ নেই, হোটেল পর্যন্ত পৌঁছে দিবেন।
বাস ছেড়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর শহরের বাহিরে এক বিশাল নজরকাড়া সুন্দর পাহাড়ি লেক দৃষ্টিগোচর হয়। পানি টলটলে নীল। হৃদ হতে রাস্তা পর্যন্ত প্রসারিত অপূর্ব সুন্দর পাইন ও ফার্ণ বন। পাথরের পাহাড়ে পাইনের বন শিলংকে এক অপূর্ব সুন্দরের রানি করে সাজিয়ে রেখেছে। সুন্দর নীল হ্রদ, পাইন বন, সবুজ পাহাড় আপন আপন সৌন্দর্য্য মেলে ধরে একাকার হয়ে গেছে শিলং গৌহাটি রোডে। মনে হলো- বাস ছাড়ার পর হতে ক্রমে ক্রমে বাসটি নীচের দিকে নামছে। ঘন্টা দেড়েক পর সুন্দর লেকের উপর একটি ঝুলন্ত সেতু অতিক্রম করি। আর ঘন্টাখানেক পর হ্রদটির অন্যপারের সমতলভূমিতে নেমে আসি। তখন একটি বিশাল লেকের মধ্যে ভাসমান অসংখ্য মনোরম পাহাড়ের দৃশ্যাবলী দৃষ্টিসীমায় ভেসে উঠে। এখান হতে মেঘালয় শেষ, আসামের শুরু। কোথাও পাহাড়ি রাস্তা আবার কোথাও সমতল ভূমি বেদ করে জিপটি অগ্রসর হতে থাকে। কোথাও পার্বত্য জনপদ, আবার কোথাও আমাদের দেশের দরিদ্র গ্রামগুলোর মত অনগ্রসর গ্রাম। রাস্তার ধারে একটি দু’তলা হোটেলে খাবার খেয়ে আবার যাত্রা শুরু। বিকাল প্রায় ৬ টায় গৌহাটি নগরে জিপটি প্রবেশ করে।
এই ব্লগ ও ইবুকে আছে আমার লেখা শাহজালাল(রঃ) ও ৩৬০ আউলিয়ার ইতিহাস। শাহজালালের(রঃ) সহচর শাহদাউদ কুরায়শীর(রঃ) বিবরণ। গল্পবই 'ঝরাপাতা', প্রবন্ধ ও কলাম বই 'সময়ের দিনলিপি' সনেট কাব্য 'রমণীয় পৃথিবীর বুকে' প্রেমকাব্য 'যে প্রাণে আগুন জ্বলে' বিদ্রোহী কাব্য 'আমার রক্তে যদি, মুক্তি আসে' সিলেট বিষয়ক কাব্য 'সিলেট তোমার নাম কবিতা দিলাম' কাব্য 'ঋতুচক্রে ইসফাক' কাব্য 'আরম্ভ রাগিনী' কাব্য 'হৃদয়ে বাংলাদেশ' ও গানের বই 'লালগোলাপ'। আর আছে ভ্রমণকাহিনি 'দেশে দেশান্তরে' এবং আত্মজীবনী 'জীবনের খেলাঘরে'
সেই তুলনায় বাংলাদেশ পর্ব- তিন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সেই তুলনায় বাংলাদেশ পর্ব- তিন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)

