১.০ আব্দুল জব্বার চৌধুরী
হজরত শাহদাউদ কুরায়শীর ত্রয়োদশ বংশধর আব্দুল জব্বার চৌধুরী দাউদপুরের কোনার বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি একজন দরবেশ প্রকৃতির জমিদার ছিলেন। দাউদপুর জামে মসজিদের সামনে ওয়ালঘেরা ফুলগাছ লাগানো জায়গায় তার কবর সুন্দর ভাবে বাঁধানো রয়েছে। তাঁর মাতা ফাজিরা বানু এবং বোন সফর চান্দ খাতুন উভয়ে ১৮৯১ ইংরেজি সালে বিন্নাকান্দি মৌজায় তাদের নিজস্ব মালিকানায় থাকা ২১ একর ১০ ডেসিমেল জমি ইসলামি শিক্ষার জন্য দাউদপুর মাদ্রাসায় ওয়াকফ দলিলমূলে দান করে যান। মাদ্রাসাটি অদ্যাবধি দাউদিয়া গৌছউদ্দিন সিনিয়ার মাদ্রাসা নামে এলাকায় ইসলামি শিক্ষা প্রসারে মূল্যবান অবদান রাখছে।
দাউদপুর পুর্বচৌধুরীবাড়ির সফিকুর রহমান চৌধুরীর চাচা আবুল বাশার চৌধুরীর সাথে সফর চান্দ খাতুনের বিয়ে হয়। আবুল বাশার চৌধুরী ও সফর চান্দ খাতুন দম্পতির একমাত্র কন্যা হাফিজা খাতুনের স্বামী ছিলেন মাঝের চৌধুরীবাড়ির রহমানুর রাজা চৌধুরী।
আব্দুল জব্বার চৌধুরীর তিন পুত্র ছিলেন। তাঁদের নাম আব্দুস সাত্তার চৌধুরী, আব্দুল মজিদ চৌধুরী ও আব্দুস সোবহান চৌধুরী। তাদের বিরাট দিঘিওয়ালা বড় পতিত বাড়িটি (কোনারবাড়ি) ভূমিখেকোরা দখল করে নিয়েছে। বাড়িটির দক্ষিণপূর্ব দিকে কিছু জায়গায় একটি মক্তব ও মসজিদ বিদ্যমান। এই কোনারবাড়ির অর্ধেক (উত্তরাংশ) এবং সামনের বড় দিঘি ওয়াকফ সম্পত্তি।
১.১ আব্দুস সাত্তার চৌধুরী
আব্দুস সাত্তার চৌধুরী এলাকায় তেরা মিয়া নামে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে আনজুমান আরার রণকেলি বাগিচাবাড়ির আব্দুস মালিক চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে হয়।
আব্দুস সাত্তার চৌধুরীর এক বোন নজিবা খাতুনকে দাউদপুর পশ্চিম বাড়ির কুতুবউদ্দিন আহমদ চৌধুরী বিবাহ করেন। এই বোনের পুত্র জহিরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রেজওয়ান। আব্দুস সাত্তার চৌধুরীর আরেক বোনের বিয়ে হয় ফুলবাড়ি গ্রামের মিরাবাড়ি। তাঁর ফুলবাড়ির ভাগনার নাম আব্দুর রহিম চৌধুরী ওরফে ধনমিয়া। ধনমিয়ার পুত্র ইউসুফ চৌধুরী। ইউসুফ চৌধুরীর মাতা দাউদপুর পূর্বচৌধুরীবাড়ির মুহিবুর রহমান চৌধুরীর কন্যা সালেহা খাতুন চৌধুরী।
হাফিজ সাহেবের বাড়ি
শাহদাউদ কুরায়শীর দ্বাদশ বংশধর এনায়েতুল্লা এই বাড়ির অধিবাসী ছিলেন। তাঁর তিন পুত্র (১) আব্দুস সামাদ (২) হাফিজ আব্দুর রহিম এবং (৩) আব্দুল কাদির। হাফিজ আব্দুর রহিম ছাড়া অন্য দুইজনের কোন পুত্র সন্তান ছিলনা। হাফিজ আব্দুর রহিম সাহেবের তিন পুত্র (১) আব্দুল মুকিত কুরেশি (২) আব্দুল মুনিম কুরেশি এবং (৩) আব্দুল মালিক কুরেশি। তাঁর জামাতা মাওলানা আতিকুল হক দাউদপুর আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। আতিকুল হক ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। শাহদাউদ কোরাইশীর ১৩তম বংশধর হাফেজ সাহেবের বাড়ির শেষ তথ্য বিবরণী তাঁদের ম্যাসেঞ্জার মাধ্যমে পেয়ে ৭ জানিয়ারি ২০২৬ সালে এখানে সংযুক্ত করে দিলাম।
সূত্র: দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ২০০০ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ "হজরত শাহদাউদ কুরায়শী(রঃ) ও তাঁর বংশধরগণ"।
এবং সংরক্ষিত প্রাচীন বংশীয় কুষ্টিনামা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন