শাহদাউদ কুরায়শীর চতুর্দশ বংশধর ইসহাক রাজা চৌধুরী একজন প্রতাপশালী জমিদার ছিলেন। তাঁর ছিলেন তিন পুত্র (১) আসাফুর রাজা চৌধুরী, (২) হাসিবুর রাজা চৌধুরী এবং (৩) মহিবুর রাজা চৌধুরী।
১.০ আসাফুর রাজা চৌধুরী
এক পুত্র আবু দাউদ কুরায়শী ও দুই কন্যা রেখে ১৯৪৫ সালে অল্প বয়সে আসাফুর রাজা চৌধুরী মারা যান। পুত্র আবুদাউদ কুরায়শী বাড়িতে পৈত্রিক সম্পত্তি দেখাশুনা করতেন। তিনি দুই পুত্র সোহেল আহমদ কুরায়শী ও তোহায়েল আহমদ কুরায়শী এবং এক কন্যা সালেহা খাতুনকে রেখে মারা যান। ছেলেরা বর্তমানে পড়াশুনায় রত। আসাফুর রাজা চৌধুরীর কন্যা আলিমন খাতুনের বিয়ে হয় দরগামহল্লা নিবাসী মশাহিদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে। আলিমন খাতুন কিছুদিন পূর্বে মারা যান। তাঁর বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ফেরদৌস চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে কর্মরত আছেন। অন্য ছেলে জাহেদ আহমদ চৌধুরী একজন দক্ষ ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংঘটক।
২.০ হাসিবুর রাজা চৌধুরী
সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা থেকে টাইটেল পাশ করার পর বড় ভাইয়ের মৃত্যু হওয়ায় অল্প বয়সে তিনি জমিদারীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি আপন চাচাতো বোনকে বিয়ে করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। দাউদপুর ইউনিয়নের প্রথম চেয়ারম্যান হরমুজউল্লাহ সায়দা সাহেব হজ্বে গেলে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে যান। সমাজ সেবামূলক বিভিন্ন কাজে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
হাসিবুর রাজা চৌধুরীর তিন পুত্র (১) গোলাম মাহমুদ কুরায়শী (২) হুমায়ুন দাউদ কুরায়শী, (৩) হেমায়েত দাউদ কুরায়শী এবং ৪ কন্যা ১) হুজেলা খানম, সিদ্দরপাশা, সুনামগজ্ঞ ২) ললা খানম, কানিশাইল গোলাপগঞ্জ ৩) মনদোহা খানম, দোয়াল, জকিগজ্ঞ ৪) হুমেরা খানম, আলীনগর বিয়ানিবাজার। হাসিবুর রাজা চৌধুরী ১৯৮৩ সালে দাউদপুরে ইন্তেকাল করেন।
২.১ গোলাম মাহমুদ কুরায়শী
বি.কম পাশ করার পর তিনি পি.আই,এ.বি. টাক এবং সর্বশেষে বি.সি.আই.সি.তে ম্যানেজার পদে চাকুরি করার পর অবসর গ্রহণ করে তিনি সিলেট শহরে কয়েক বছর বসবাস করেন। তাঁর এক পুত্র জুবায়েদ কুরায়শী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং এক কন্যা শারমিন ঢাকা থাকেন।পুত্র জুনায়েদ কুরায়শী ইংরেজি সাহিত্যে বি.এ (অনার্স); এম.এ পাশ করার পর ইউ.এন. ডি.পি-তে চাকুরি করেন। বর্তমানে আমেরিকার আটলান্টাতে আছেন। তাঁর দুটো ছেলে মিনহাজ ও ওয়ারিদ। গোলাম মাহমুদ কুরেশী শেষজীবনে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে চলে যান এবং সেখানে ২০২১ সালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
২.২ মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন দাউদ কুরায়শী
বি.এস.সি পাশ করার পর বাংলাদেশ বিমানের সিভিল এভিয়েশনে অফিসার হিসাবে তাঁর কর্মজীবন আরম্ভ হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেট এয়ারপোর্টের ম্যানেজার পদে থাকাকালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে সিলেটের জকিগঞ্জ থানা স্বাধীন হলে তিনি ঐ থানার এডমিনিস্ট্রেটার নিযুক্ত হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সাবেক কর্মস্থল সিলেট বিমান বন্দরে ম্যানেজার পদে তিনি পুনরায় যোগ দেন। পরবর্তীতে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পরিচালক থাকাকালে চাকুরীতে ইস্তোফা দিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসা আরম্ভ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে থাকেন। শাহবাজপুর পরগনার ভোগা গ্রামের জমিদার আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর কন্যা নুরুন্নাহার বেগমের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর প্রথম পুত্র সাব্বির আহমদ বি.কম পাশ করে বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করছেন। মেয়ে লুবনাও যুক্তরাজ্য প্রবাসী। কনিষ্ঠ পুত্র তানভীর আহমদ কুরায়শী বর্তমানে ঢাকায় ব্যবসা করেন।
২.৩ হেমায়েত দাউদ কুরায়শী
বি.কম ক্লাশে পড়ার সময় তিনি জার্মানি চলে যান। সাত বৎসর পর দেশে ফিরে ঢাকায় একটি টেক্সটাইল মিল স্থাপন করেন। বর্তমানে তিনি গ্রামের বাড়িতে একটি ডেয়রি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে ঢাকায় বসবাস করছেন। হেমায়েদ দাউদ কুরায়শী দাউদপুর পশ্চিম বাড়ির আব্দুল হাসান মসদ্দর আলী চৌধুরীর কন্যা রুমানা চৌধুরীকে বিবাহ করেন। তাঁর একমাত্র পুত্র জুনায়েদ দাউদ কুরায়শী কানাডার টরেন্টোতে আছে। বড় মেয়ে আফরীন ইউনাইটেড এয়ার লাইনে চাকুরিরত। ছোট মেয়ে মায়েশা দাউদ শান্তমারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনে পড়াশুনায় রত। তিনি শেষজীবনে আমেরিকার ডেট্রয়েট শহরে চলে যান এবং ২০২২ সালের আগস্ট মাসে মিশিগানে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানে সমাধিস্ত হন।
৩.০ মুহিবুর রাজা কুরায়শী
তাঁর দুই পুত্র আবুল লেইছ কুরায়শী ও আবুহেনা কুরায়শী। জ্যেষ্ঠ পুত্র আবুল লেইছ কুরায়শী কিছুদিন ডাক বিভাগে চাকুরি করার পর কয়েক বৎসর সৌদি আরবে কাটান। বর্তমানে তিনি সিলেটে থাকেন। বাড়িতে থেকে বিষয় সম্পত্তি ও দেখাশুনা করছেন। কনিষ্ঠ পুত্র আবুহেনা কুরায়শী কানাডার টরেন্টো শহরে থাকেন। তাঁর মেয়েরা হচ্ছেন সেকুফতা খানম বিয়ে হয় রনকেলী, আসুকতা খানম, সায়রা খানম বিয়ে হয় ফরমঙ্গল সুনামগঞ্জ এবং পান্না খানম।
সায়রা খানমের একজন কন্যা বিচার বিভাগের জজ, অন্য কন্যা ডাঃ শাহরিন এফ সি পি এস। তিনি সিলেট মেডিকেল কলেজের শিশুরোগ বিভাগের অধ্যাপিকা। একমাত্র পুত্র শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার ছিল। বর্তমানে কানাডায় অধ্যাপনা করছেন।
পান্না খানমের মেয়ের সাথে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিভাগের একজন প্রভাষকের বিয়ে হয়। তাঁরা এখন কানাডায় আছেন। এই প্রভাষকের পিতার নাম মনিরউদ্দিন চৌধুরী। তাঁদের বাসা সারিকুঠির, সাগরদিঘিরপার, সিলেট।
৩.১ আবুল লেইছ কুরায়শী
তাঁর জন্ম অনুমানিক ১৯৪৩ সালে। তাঁর তিন পুত্র (১) আয়মন দাউদ কুরায়শী, একাউন্টিং এ মাস্টার্স, বর্তমানে চার্টার্ড একাউন্টেন্ট (২) মনোয়ার দাউদ কুরায়শী চার্টার্ড একাউন্টেন্ট এবং (৩) মোহতছিন দাউদ কুরায়শী, বর্তমানে আধ্যয়ন শেষে চাকুরিরত।
কালের বিবর্তনে মাঝেরবাড়ির দক্ষিণের খালিবাড়ি রিয়াজ আহমদ চৌধুরী খরিদ করে নেন এবং তাঁর পিতার নামে নির্মিত ই এ চৌধুরী টেকনিকেল কলেজের ক্যাম্পাসে পরিনত করেন।
৪. রহমান রাজা চৌধুরী
তিনি দাউদপুর পূর্ববাড়ির আবুল বসর চৌধুরী ও ছফরচান্দ খাতুনের একমাত্র কন্যা হাফিজা খাতুন চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
খুব ভালা লাগলো আপনার মুল্যবান গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পড়ে
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।
মুছুন