দেখে এলাম ভারত, সেই তুলনায় বাংলাদেশ পর্ব- পাঁচ
সন্ধ্যার পর তাজমহল হতে গাড়ি দিল্লির দিকে যাত্রা শুরু করে। আগ্রার রাস্তার সংযোগস্থল সমূহে মোগল সম্রাটদের ঘোড়ায় চড়া ভাস্কর্য্য দেখা যায়। পথে মথুরায় রামের জন্মস্থান ও মন্দির পরিদর্শন করি। এই মথুরা প্রাচীন যুগে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের তীর্থক্ষেত্র ছিল। তারপর আসি বৃন্দাবনে। বৃন্দাবন হিন্দুদের তীর্থস্থান। অসুরদের বিনাশ করে পৃথিবীতে স্নেহধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে এখানে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়। শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণের বিহারস্থল এই বৃন্দাবন।এখানে হিন্দুধর্মের বৈষ্ণব ধারা পূর্ণতা লাভ করে। এখানকার মন্দির বিশাল, বাসের হিন্দু যাত্রীরা জয় রাম, জয় কৃষ্ণ শ্লোগান দিয়ে মন্দিরে যান। আমরাও সাথে সাথে গমন করি। পূজারীরা পুজা দেন। সবার কপালে চন্দনের টিপ দেওয়া হয়।
সর্বধর্মের মানুষকে এখানে যথার্থ শ্রদ্ধা ও সম্মান জ্ঞাপন করেন মন্দিরের লোকজন। শেষরাতে দিল্লি ষ্টেশনে আমরা বাস থেকে নেমে বেবিটেক্সিতে করে ‘বিশাল’ হোটেলে চলে আসি। সকাল ৮ টায় ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সম্পন্ন করে নিউদিল্লি স্টেশনে এসে রাজধানী এক্সপ্রেস ধরি। সেদিন ১৩ সেপ্টেম্বর ৯.৩০ মিনিটে রাজধানী এক্সপ্রেস গৌহাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। আমার ইচ্ছে ছিল আরও ২/৩ দিন অবস্থান করে জয়পুর, আজমির ও দিল্লির অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখে আসব। কিন্তু বেগম সাহেবার আর ভারত অবস্থানের ধৈর্য্য নেই। দিল্লিতে বেশ গরম, তদুপরি প্রায় দুই সাপ্তাহ হয়ে গেছে আমরা দেশের বাহিরে। তাই তিনি আর ভ্রমণকষ্ট সইতে পারছেন না। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও যাত্রা বিরতি দিয়ে ফেরত হই।
ভারতীয় ট্রেন রাজধানী এক্সপ্রেসের যাত্রিসেবা সেবা ছিল অতুলনীয়। একটু পর পর তারা টমেটো জুস, চা, কফি ও নাস্তা পরিবেশন করে। শোবার বেডের কভার বদলে দেয় কয়েকবার। আমরা ধর্মীয় কারণে মাছ ও নিরামিষ ভোজন করি। পাশের ভদ্রলোক রঞ্জন দাসের সাথে আমাদের বেশ ভাব জমে ওঠে। তিনি হিন্দি ও সিলেটি ভাষায় সমদক্ষ। রঞ্জন দাস আমিষ খান। তিনি আমাদেরকে নিরামিষভোজী মনে করে একটু আড়ালে বসে মোরগ-ভাত খান। গৌহাটিতে যখন ট্রেন আসে তখন রাত হয়ে যায়। রঞ্জন দাস আমাদেরকে একটি হোটেলে কক্ষে ঢুকিয়ে বিদায় নেন। রঞ্জন দাসের আন্তরিকতা সত্যিই মনে রাখার মত। সেইরাতে সিলেটের মত গৌহাটিতে ঝুমঝুম বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া ভেজা ও ঠাণ্ডা, তাই এসি অন করার দরকার হয়নি। পরদিন সকালে নাস্তা করে আমরা শিলঙের বাসে আরোহন করি। সেই সুন্দর পাহাড়ি রাস্থা দিয়ে দুপুরে শিলং এসে যাই। দুপুরের খাবার এবং ঘন্টা খানিক বিশ্রাম সম্পন্ন হয় শিলং শহরে। এবার ডাউকির বাসে চেপে সেই নয়নাবিরাম সুউচ্চ পাহাড়ি রাস্থা দিয়ে এসে বিকেলে তামাবিল সীমান্ত পার হয়ে জন্মভূমি বাংলাদেশে প্রবেশ করি, আমরা তিনজন জেফার, আমি ও ডাঃ নুরজাহান। যে পথ দিয়ে শিলং, গৌহাটি ও দিল্লি গেলাম, সেই একই রাস্থা দিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম।
ভারতীয় ট্রেন রাজধানী এক্সপ্রেসের যাত্রিসেবা সেবা ছিল অতুলনীয়। একটু পর পর তারা টমেটো জুস, চা, কফি ও নাস্তা পরিবেশন করে। শোবার বেডের কভার বদলে দেয় কয়েকবার। আমরা ধর্মীয় কারণে মাছ ও নিরামিষ ভোজন করি। পাশের ভদ্রলোক রঞ্জন দাসের সাথে আমাদের বেশ ভাব জমে ওঠে। তিনি হিন্দি ও সিলেটি ভাষায় সমদক্ষ। রঞ্জন দাস আমিষ খান। তিনি আমাদেরকে নিরামিষভোজী মনে করে একটু আড়ালে বসে মোরগ-ভাত খান। গৌহাটিতে যখন ট্রেন আসে তখন রাত হয়ে যায়। রঞ্জন দাস আমাদেরকে একটি হোটেলে কক্ষে ঢুকিয়ে বিদায় নেন। রঞ্জন দাসের আন্তরিকতা সত্যিই মনে রাখার মত। সেইরাতে সিলেটের মত গৌহাটিতে ঝুমঝুম বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া ভেজা ও ঠাণ্ডা, তাই এসি অন করার দরকার হয়নি। পরদিন সকালে নাস্তা করে আমরা শিলঙের বাসে আরোহন করি। সেই সুন্দর পাহাড়ি রাস্থা দিয়ে দুপুরে শিলং এসে যাই। দুপুরের খাবার এবং ঘন্টা খানিক বিশ্রাম সম্পন্ন হয় শিলং শহরে। এবার ডাউকির বাসে চেপে সেই নয়নাবিরাম সুউচ্চ পাহাড়ি রাস্থা দিয়ে এসে বিকেলে তামাবিল সীমান্ত পার হয়ে জন্মভূমি বাংলাদেশে প্রবেশ করি, আমরা তিনজন জেফার, আমি ও ডাঃ নুরজাহান। যে পথ দিয়ে শিলং, গৌহাটি ও দিল্লি গেলাম, সেই একই রাস্থা দিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম।

