আমার কলঙ্ক আমি পৃথিবীর গায়,
হতাশায় ভরা মন পুঞ্জীভূত বেদনায়।
জায়গা কোথায় পাবো চরণ রাখার?
মাটি নেই, সবখানে রাজত্ব আগাছার।
আমার লোমস বুকে জমেছে কালোমেঘ,
রয়েছে ঘুমিয়ে সেথায় হারায়ে আবেগ।
কাঁদো হে মেঘ, সভ্যতায় ঢালো লাল বৃষ্টি,
মরে যাক পৃথিবীর সব অনাসৃষ্টি।
জীবনে দেখা হল কত পদ্মা মেঘনার জল,
শীতে দারুণ ঠাণ্ডা শীর্ণকায়া রৌদ্রে ঝলমল।
পৌষে হিমেল বুকে জমা হয় অগ্নিদাহ তেজ,
গ্রীষ্মের উত্তাপে জাগে বিপ্লবের আমেজ।
বর্ষায় রাগে ফুলে সব নদী হয় ভয়ঙ্কর,
দুই তীর তটিনীর সন্ত্রাসে কাঁপে তর তর।
এপার ওপার চায় চেপে ধরে বন্দি রাখিবারে,
শীতের নদী মানে না বাঁধা, দাঁড়ায় হুংকারে।
সলাৎ সলাৎ নাদে কেঁপে উঠে নদীর দুকূল,
শীতের মরানদী গ্রীষ্মের দহনে করে হট্টগোল।
মাঘের শীর্ণ তটিনী সহসা শক্তির অহংকারে,
হাজার হাজার গ্রাম বর্ষায় দেয় ভেঙ্গেচুরে।
বারমাসের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ বিস্ফোরণে জেগে,
ভাসায় সব, ডুবায় দেশ, দাঁড়ায় আচমকা রেগে।
বহুদিনের জমানো বরফ মানবজাতির শিরায়,
হঠাৎ বিদ্রোহী হবে, সুযোগের অপেক্ষায়।
রক্তমেঘ উড়ে উড়ে হচ্ছে আকাশে জমাট,
বৃষ্টিধারা হয়ে নেমে ধূয়ে দেবে পৃথিবীর মাঠ।
নদীর বন্যার মতো উপড়ে দুই প্রাচীর,
নীলজলে সমান করে দেবে সব তীর।
জনতার পুঞ্জীভূত ক্রোধ ভয়ঙ্কর হয়ে,
অনাচার জঞ্জাল সব, ধূয়ে নেবে নির্ভয়ে।
নদীবিধৌত পললে ভরা এই বাংলার বুকে,
ভেদাভেদ ভুলে মানুষ করবে বাস সুখে।
উচুনিচু এক হবে, সমতলে হবে সব ঘর,
একনদী রক্তের উম্মাতাল বন্যার পর।
পৃথিবীতে দেখা যায়, রক্তবৃষ্টি শেষে,
বিবেকি ন্যায়বাদ জেগে উঠে হেসে।
রচনাকালঃ ছাত্রজীবন ১৯৮১-৮৬ সাল

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন