১
চর্ম দেয়ালের বন্দি খাঁচায় মাতৃগর্ভে শিশু,
মুক্ত হবার স্বপ্ন ছাড়া আর ভাবেনা কিছু।
অনেক কষ্টে কোমল দেয়াল কোনমতে টপকায়ে,
মানব সন্তান আসে পৃথিবীর ক্ষতবিক্ষত গায়ে।
২
তীব্র চীৎকারে কেঁদে উঠে সে, কঠিন যন্ত্রণায়,
পৃথিবী খানিক দেখে স্বস্তির আখি মেলে চায়।
মায়ের স্বর্গীয় কোলে নির্বিঘ্নে কাটে তার দিন,
বড় হয়েই দেখে পথ নেই, প্রাচীর সীমাহীন।
৩
যাত্রাপথে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে অজস্র দেয়ালে,
হুশ হয়, ঠেকে শিখে পথচলা, বাঁধার প্রবালে।
জীবনের সবদিকে হিমালয়, চীনের প্রাচীর,
পূর্বে উদয়, যেতে হবে পশ্চিমসাগর তীর।
৪
পথে পথে ব্যারিকেট, ইস্টক, পাথরের বাঁধ,
অসহ্য যন্ত্রণায় প্রাণে জাগে আত্মহত্যার স্বাধ।
দুর্দম যারা এই পৃথিবীর অদম্য সাহসী পথিক,
মানে না সে বাঁধা, হাতুড়ি চালায় ঠিক্ ঠিক্।
৫
ভেঙ্গে ভেঙ্গে শত ব্যারিকেট জীবনের পথে পথে,
অদম্য পথিক পৌঁছে যায় আপন আবিষ্ট রথে।
শত দেয়ালের শত প্রাচীরের বাঁধা করে চুরমার,
বিজয়ীর বেশে পৌঁছে তারা স্বপ্ন প্রতিমার ধার।
৬
দেয়াল ভাঙ্গার উম্মাদ গানে গানে,
সাফল্যের সুরেলা সঙ্গীত বাজায়ে পরানে।
একদিন দেখে তার যাত্রা সফল,
সুদীর্ঘ্য জীবন আলো ঝলমল।
৭
দেয়ালের ফাঁদে পড়ে হারায় যে গতি,
ননীরপুতুল সে, জীবন তাঁর শৈবাল বসতি।
গতিহীন বন্ধনদী ভরে যায় আগাছায়,
তীর ভেঙ্গে ভরাট সে নদী, ঝিল হয়ে যায়।
৮
জীবন, সংগ্রামী শাবল এক দেয়াল ভাঙ্গার,
স্বমূলে উপড়ে ফেলা, প্রাচীর বাঁধার।
চলার পথে অযথা সব দেয়াল ভাঙ্গতে হয়,
নইলে জীবন, কোন বিন্দুতে স্থবির হয়ে রয়।
৯
হাত দু’টি হিসপিস করে, ভাঙ্গবো সব দেয়াল,
জাগো বাহে কোনঠে সবে, করো এবার খেয়াল।
মিথ্যা প্রাচীর আর কত বলো রুখবে সবার পথ,
যুদ্ধ করে মিহি রাস্থা বানাও, সাজাও সোনার রথ।
রচনাকালঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবন

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন