১
বুঝেছি বন্ধু, আপনারে গরিব ভেবে,
তুমি হয়ে গেছ বড়ই হতাশ।
গলার স্বর বসে গেছে তোমার,
ফেলছো বড় কষ্টের নিঃশ্বাস।
তোমার বাড়ি এলে কেউ,
লজ্জায় লাল হয় মুখ।
সংকোচে জমে পাথর হও,
কেঁপে কেঁপে উঠে সারাবুক।
২
ভাঙ্গা কুঁড়েঘর পুরনো আসবাব,
বহুকাল হয় নি চুনকাম।
যদিবা দেখে ফেলে কেউ,
এই ভয়ে তুমি কম্পমান।
৩
যদিবা রাতে থেকে যায় কেউ,
দেখবে ভাঙ্গা খাট, শীর্ণ বিছানা।
ছেড়া মশারী দেখাতে চাওনা বলে,
কর কত তাড়ানোর বাহানা।
৪
লজ্জা কীসের, আমিও তোমারই মত,
জেনে রাখ, আমাদের দল ভারী।
যে দিকে তাকাবে, দেখবে গরিব,
আমাদেরই ছড়াছড়ি।
চোখের পলক ফেরাবে যেথায়,
দেখবে সেথায়, হাজার রিক্ত হাত।
ফুটো দিয়ে আলো, ঢুকে কুঁড়েঘরে,
পূর্ণিমার সারাটা রাত।
৫
ঝড় বাদলে বর্ষণসিক্ত দিনে,
বৃষ্টির অবিরাম সুরেসুরে।
ভিজে চুপসে ভেঙ্গে যায় ঘুম,
মধ্যরাতে কিংবা খুব ভোরে।
তোমার-আমার মতই দরিদ্র,
বাংলায় প্রায় সব লোক।
শীত গ্রীষ্ণ বর্ষায় রণক্লান্ত,
তবুও প্রত্যয়ভরা বুক।
৬
বাংলাদেশে বড় দল সর্বহারা,
রিক্ত আমাদের।
এই সমাজের অবয়ব মোরা,
বলতো লজ্জা কীসের ?
রচনাকালঃ কলেজ জীবন

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন