ঢাকার কঠিন মাটিতে শিকড় গেঁথে ফেলেছি,
চৌদ্দতলা ভবনের ঢালাই শেষ প্রায়।
ভিত্তের পাহাড় হয়ে গেছি সহসা,
পিস্তল নিয়ে ঘুরি ফিরি, দামি গাড়ি হাঁকায়।
ব্রেইন, সে তো ধারালো বিষছুরি সবদিন,
বুদ্ধিতে আমি এক ধূর্ত শেয়ালের রাজা।
লেখাপড়া কমবেশি শিখেছি যদ্দুর,
এখন কাজ আমার দেশপ্রেমিক সাজা।
জনদরদির স্যুট পরবোই টাইট বেল্টে,
উড়ে যাতে না যাই ঝড়ের বাতাসে।
জোঁক পিচ্ছিল রাস্তায় আমি পথ চলি,
সাবধানি তাই আমি প্রতিটি নিঃশ্বাসে।
কৈশোর হতে কত দল ঘাটাঘাটি করি,
ভূইফুড় নেতাও হয়ে যাই কতবার।
অস্থিরতার নরক অনলে করি বসবাস,
হতাশার উত্তাপে দহে হই ছারখার।
আমি দারুণ তার্কিক যে কোনো সভায়,
বিতর্কে আমি, আমার ইচ্ছা, জয়ী সববার।
শয়তানের শক্তঘাঁটি, আমার এই মাথায়,
এদূর্গে রাজবেশে বসবাস তার।
জিলাপীর মারপ্যাচে মোর কাদা হয় সোনা,
সোনা হয় চুলোর তুচ্ছ ছাইয়ের সমান।
আমি জানি, কোন মাঠে, কোন শস্য বুনা,
স্বপ্নে পাওয়া ঔষধ করি সঠিক প্রমাণ।
ওসি সাহেবকে কাড়ি কাড়ি টাকা ঘুষ দিয়ে,
বারবার রাজবন্দি হয়ে, গেছি কত জেলে।
দেয়ালে চিকা মেরে সছবি পোস্টার ছেপে,
দেয়ালে চিকা মেরে সছবি পোস্টার ছেপে,
গণ্যমান্য হয়ে গেছি এই শহরে কৌশলে।
শহিদমিনারের চোঙ্গায় ওয়াজ করেছি,
ভাঙ্গা চেয়ারের উপর সদম্ভে দাঁড়িয়ে।
জন কুড়ি সাথিদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে,
সুউচ্চে ভাষণ দিয়েছি কত গলা হাকিয়ে।
বহুপথ পেরিয়ে বহুদূর এসেছি আমি,
সুনাম ও কুনাম, দুই ফেরেস্তা কাঁধে নিয়া।
এক অতৃপ্ত লোভের নেশায় হরদম,
স্বপ্নের পথ ধরে চলেছি হাঁটিয়া।
পুলিশ ব্যাটাদের চক্ষুবিষ আমি,
শান্তিতে ঘুমাতে দেয় না তারা।
ওদের রক্ত জ্বালা পোড়া করে,
আমার সন্ধানে তাঁরা ঘরছাড়া।
রাজনীতি ব্যবসায় সব হয়ে গেছে,
রিক্ত হাত আজ টাকায় টাইটুম্বুর।
ভেসে গেছি বিজয়ের আনন্দ উল্লাসে,
অর্থে ভিত্তে অহংকারে আমি ভরপুর।
শেষ কথা, ঢাকায় তৈরি উদ্যান,
ফুটাবো ফুল আমি, আর নয় দূর।
ক্ষমতা ও ঐশ্বর্য্যের মদিরায় মারব চুমুক,
এবার বাজবে আমার বিজয় নুপুর।
মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী একটা কিছু হবোই এইবার,
সিপাই পাহারা দিবে, লোক নত হবে, চরণে আমার।
চাটুকার পা টিপবে, মোসাহেব স্থুতি গাইবে সম্মান জানায়,
ফটক, মাল্য, পুস্পস্তবক, জনতা, ঠাই পাবে বুটের তলায়।
জনসেবক, গণনেতা, গরিবের বন্ধু দেশের কৃতিসন্থান,
কপালে জুটে যাবে একসাথে চৌদ্দ প্রজন্মের সম্মান।
এলিটের রাজমুকুট যখনই শোভা পাবে শিরোপরে আমার।
এলিটের রাজমুকুট যখনই শোভা পাবে শিরোপরে আমার।
অকাম কুকাম করবো, যা ইচ্ছে তাই করে যাবো বারবার।
রচনাকালঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবন (১৯৮৭-১৯৯১)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন