চৌধুরী ইসফাকুর রহমান কুরেশী
ন্যায়তন্ত্র
ন্যায়তন্ত্র
ফুটপাতে এক টুকাই ছেলে, কাটায় রাতের পালা,
পরনে তার মলিন পোশাক, পেটে ক্ষুধার জ্বালা।
রোগে শোকে সোনার মুখ তাঁর মলিন হয়ে গেছে,
অহংকারী বড়লোকেরা ঘুরছে তারি পাশে।
শীতের জ্বালায় প্রাণটা তাঁর কাঁপছে অবিরত,
সারা অঙ্গে মশামাছি রক্ত পানে রত।
মা যে তার ঘুমিয়ে আছে ডাস্টবিনেরই ধারে,
কেমন করে বাঁচবে ওরা, ভাবছে বারে বারে।
একটি শিশু অট্টালিকায় কাটায় সুখের রাত,
নতুন নতুন জামা পরে সারাটা দিনরাত।
মজার মজার স্বপ্ন দেখে সোনার হরিণ পাবার,
দামি কারে বাবু সেজে বিদ্যালয়ে যাবার।
সর্দি-কাশির আছর হলে আসেন সেরা ডাক্তার,
মুখরোচক খাবার পাতে, না খেয়ে নেই নিস্তার।
বস্তি-বালক ইসকুলঘর দেখে করুণ চোখে,
ঠেলাগাড়ির হাতলখানি জড়িয়ে আপন বুকে।
ধনী-বালক রাত্রি এলে স্বপ্নেতে হয় নিঝুম,
টুকাই শিশুর গভীর রাতে, নেই যে চোখে ঘুম।
কালোরাতের হিমেল হাওয়া সুধায় তারে মন্ত্র,
বাঁচতে হলে লড়তে হবে, গড়তে ন্যায়তন্ত্র।
রচনাকালঃ ১৯৮৪ সাল, দাউদপুর, সিলেট

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন