শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

তোমার হৃদয় বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু আমি

তোমার হৃদয় বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু আমি
সুখ নামক সোনার পাখি,
শান্তি নামক শীতল নদী,
হাসি নামক নন্দনকানন,
আতশবাজির রঙ্গমঞ্চ হতে 
আনন্দের মাঝখানে হারিয়ে গেল।
আমার এজীবনটাকে করে ছারখার,
বিরহের অনল জ্বালিয়ে, সুতীব্র যন্ত্রণার।
 ২
যে আমি ছিলাম একদিন  
তোমার হৃদয়বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু,
তোমার ফুটন্ত কমলের বৃন্ত,
  পাহাড়ি নদীর উত্থাল স্রোত,
 এক বাগানের উদাস বুলবুলি,
পপিফুলের নির্যাস হিরোইন।
একজোড়া নয়নের অতৃপ্ত চাহনি,
  কারো বুকের শত সাধনার ধন,
 ছিলাম আমি এক হৃদয় সাম্রাজ্যের রাজধানী, 
 আড়াই হাজার বছরের সাক্ষী দিল্লি নগরী।

সেই আমি সাজলাম আজ,
বাংলার ঈশানকোণের  বাউল, শাহ আরকুম,
গভীর রাতের অনিদ্র স্বপ্নাচারী, 
দুচোখে আসেনা ঘুম।
তোমারে পাইতে যদি না যাইত মন,
না লাগিত প্রেমের আঠা, না হইত মরণ।
আমি শান্তি পেতাম-
তোমার ফুলবাগানে জলসেচনে,
তোমার পাঁপড়িতে হৃদয় সঙ্গমে,
তোমার মধুকুঞ্জে গুনগুন গুজ্ঞরণে
মূহূর্তে মূহূর্তে, প্রতি ক্ষণে ক্ষণে।
সুতীব্র আর্তনাদে, সদাহাস্য ছিলাম,
তোমার মনের কনিকায় কনিকায়।
বিলিয়ে দিলাম নিজেকে নিঃশেষে,
তোমার সবুজ দ্বীপের নির্জন চরায়।
আমার সারাটা জীবন,
মধুমধু বসন্ত যৌবন,
শরীরের সব ক’টি অণুকনা,
শেষবিন্দু রক্ত-ফোটাও।
 ৬
তোমাকে দিতে দিতে, 
সতের বছরের এই নাতিদীর্ঘ জীবনে হারাই, 
 সামান্য সঞ্চয় আমার  যা ছিল, তার সবটাই।

ছবিঃ
চৌধুরী ইসফাকুর রহমান কুরেশি
বিশ্বমানবতাবাদী ও একেশ্বরবাদী একজন 
কবি, লেখক, ব্লগার ও ব্যাংকার
পত্নী ডাঃ নুরজাহান বেগম চৌধুরী
রচনাকালঃ আমার এমসি কলেজ জীবন, সিলেট।
কাব্যঃ যে প্রাণে আগুন জ্বলে 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন