শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

বুকের প্রকোষ্টে বিষাক্ত আয়োডিন


বুকের প্রকোষ্টে বিষাক্ত ফরমালিন 
রজনীর বীকট অন্ধকারে,
ঘুমিয়ে পড়েছে এই পৃথিবীর সব।
বন্ধ হয়ে গেছে জীবনের সব কলরব।
কেবল দু’একটা বাদুরের পতপত্ ধ্বনী,
রাতের চিরসঙ্গি সোঁ সোঁ আওয়াজ।
সবাই রয়েছে গভীর ঘুমে
অথচ আমার চোখ দু’টি নিদ্রাহীন।
স্বর্গের স্বর্ন-পাখি এই ‘মিষ্টি ঘুম’
যে আমারে ছেড়ে পালিয়ে গেছে
 বহুযুগ আগে বহুদূর।
চোখ ঝিমিয়ে আসলেই দেখি দু:স্বপ্ন
একটি কালো অশরিরী নারীমূর্তি
যে আমাকে গিলে ফেলতে চায়,
যে আমাকে মেরে ফেলতে চায়।
আমি বাঁধা দিচ্ছি ওকে
বাঁধা দিচ্ছি প্রাণপনে।
কে যেন আমার গলা টিপে ধরেছে,
বন্ধ হয়ে আসছে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস,
বাঁচার কোন রাস্তা নেই,
মৃত্যু ভয়ে তাই বিবর্ণ হয়ে যাই
ভয়ার্ত কন্ঠে জুড়ে দেই চিৎকার
বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও,
কে আছ আমাকে বাঁচাও।

ঘুম ভেঙ্গে যায়, দুঃস্বপ্ন  পালায়,
 জ্বালিয়ে দেই বাতি, বসি বিছানায়
চোখ জুড়ে তখনো এক নারীমূর্তি।
লোমহর্ষক ভয়ঙ্কর রাক্ষুসী মূর্তি,
চোখে কেবল অন্ধকার, গহীন অন্ধকার।

বন্ধুদের ঠেলায় পড়ে,
 গেলাম আমি হুজুরের হুজরায়।
বললেন হুজুর, 
আপনি পড়ছেন এক, বোবা-দৈত্যের পাল্লায়।
 ঝুলিয়ে দিলাম তাবিজ এই গলায়।
অথচ হলনা কোন কাজ, 
জনাবের পানি-পড়া, তাবিজ-টুকায়।
 
শুয়ে শুয়ে ভাবি কে এই ঘুম ঘাতকিনী,
ঘুম এলেই তেড়ে আসে, সেই রাক্ষুসিনী?

অবশেষে পেয়ে যাই তারে
সে আমার এক নিত্য সহচর,
"একবুক দুশ্চিন্তা"
বুকের প্রকোষ্টে সক্রিয় বিষাক্ত ফরমালিন।

রচনাকালঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবন (১০৮৭-৯০সাল)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন