শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

আমার হৃদয়ের হাসি মাখা চাঁদ


আমার হৃদয়ের হাসিমাখা চাঁদ

তোমার আচমকা আগমনে-
নিদারুণ হতচকিত ছিলাম আমি।
আমাকে তৈরী করিনি,
একটুও প্রস্তুত হইনি,
আমি ছিলাম উদাসীন এক ভবঘুরে পথিক। 

তোমার গন্ধে প্রতিটি প্রশ্বাসে আমার
মিশতে লাগিল বিষাক্ত ফসফিন।
মনজগতে সংঘটিত হলো এক
মারাত্মক পারমানবিক বিস্ফোরণ।
বাতাসে সওয়ার হয়ে সুউচ্চে উড়ে গেল
আমার ভয়ার্ত আলুথালু মন।

ডুব সাঁতারে মত্ত হল একটা শ্বেত হাঁস
আমার ভাবের স্বচ্ছ হৃদে।
কল্পনার স্বপ্নীল বাগিচায় এলো এক বসন্ত কোকিলা
শাখে শাখে হলো তার চঞ্চল নাচন,
মোলায়েম কুহু কুহু তানে।
কুহুকুহু
সে যে এক বিষময় সুর,
কি অসহ্য বিরহের যন্ত্রনা মাখা।
সে সুরের সুতীব্র দহন সইতে পারিনি আমি।

সে কুকিলা,
 কত যে উড়াউড়ি করে গেল,
আমার লুকোচুরি বনে, 
 হৃদয়ের বসন্ত বাগানে,
কেউ ছিলনা যখন সেথায়। 
ছিল শুধু প্রভাতের কলতান,
প্রেম-হাসি-গুজ্ঞরণ-গান,
আর সোনালী সূর্যোদয়।

বেজে উঠলো মৃদুমন্দ ঝংকারে
কুকিলার কুহুকুহু তান,
কেবল বাজিল মনে,
আমার স্বপনে জাগরণে
চিন্তা ও চেতনায়।

রূপা চাঁদ উঁকি দিল আমার আকাশে,
সেথায় কোকিলার পদ্মমুখ আগুন চোখে দেখল আমায়।

অগণন ছায়াপথ তারকার দেশে-
রাণীর আসনে যেমন বসে থাকে পূর্ণিমার চাঁদ,
পৃথিবীর শতশত কিশোরীর ভীড়ে।
আমার রাজবাড়ির রাজরাণী ছিলে তুমি
তেমনই একজনা। 
যেজনা- 
'বিষের বাশির বিষ কোকিলা'
আমার হৃদয়ের  হাসিমাখা পূর্ণিমার শ্বেতশুভ্র চাঁদ।

রচনাকাল ঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয় জীবন


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন