শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

আগস্ট ২০০৭ সাল, টাঙ্গুয়ার হাওর পরিদর্শনঃ

 

আগস্ট ২০০৭ সাল, টাঙ্গুয়ার হাওর পরিদর্শনঃ

এতদিন টাঙ্গুয়ার হাওরের অনেক অনেক গল্প শুনতাম। শীতকালে পত্র পত্রিকায় এই হাওরে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি উড়ার  ছবি দেখতাম। একদিন আমাদের বরইকান্দি শাখার ব্যবস্থাপক ফারুক আহমদ আমাকে ফোন করে বললেন, কুরেশী ভাই আমাদের নেতা পুবালী ব্যাংক লিমিটেড সিলেটের আঞ্চলিক প্রধান আব্দুল করিম চৌধুরী স্যার সবাইকে নিয়ে একদিন একরাতের সফরে টাঙ্গুয়ার হাওরে যাবেন। আপনি যেতে চাইলে আড়াই হাজার টাকা পাঠিয়ে দিন। টাঙ্গুয়ার হাওরে যেতে আমার দারুণ উদ্দিপনা, এই প্রস্তাব তাই পাওয়ামাত্র সাথে সাথে লুফে নিলাম। 

আগস্ট ২০০৭ সাল। এক শুক্রবার সাত সকালে আমাদের নেতা মহাব্যবস্থাপক আব্দুল করিম চৌধুরী অফিসের কয়েকটি গাড়ির একটি বড় লাটবহর নিয়ে সিলেট হতে সুনামগঞ্জের দিকে যাত্রা শুরু করলেন। আমাদের দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন সিলেট আঞ্চলিক অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মামুন বখত। কালিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুব আহমদ, কদমতলীর ফয়ছল আহমদ, বরইকান্দির ফারুক আহমদ, চৌকিদেখির আরিফুর রহমান, মহিলা কলেজ শাখার মশিউর রহমান খান এবং ঢাকা হতে আগত মোহাম্মদ শামস, সুকান্ত বনিক প্রমুখ ব্যবস্থাপকগণসহ অনেকে এই আনন্দযাত্রায় শরিক হন। 

আমাদের সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য ব্যবহারে খুব আমায়িক এবং সর্বকাজের কাজি একজন করিৎকর্মা লোক। তিনি সুনামগঞ্জে এক জাঁকজমকপূর্ণ নৌসফরের আয়োজন করেন। বৌদি মিতা ভট্টাচার্য্য ও একমাত্র আদরের কন্যা ঐন্দ্রিলা ভট্টাচার্য্যকে নিয়ে তিনি পাশে একটি বাসায় বসবাস করতেন। সুনামগঞ্জে এসেই বউদির হাতে সযতনে তৈরি করা চানাস্তায় আমরা চুমুক দিলাম। সুনামগঞ্জ শাখায় ভুরিভোজ করে আমরা সুরমানদীর ঘাটে ছুটে গিয়ে দেখলাম এই শাখার গ্রাহক একজন ধনী ব্যবসায়ী আবু সাইদ মোঃ খালিদ সাহেবের একটি সুরম্য বড় গয়না নৌকা নদীঘাটে আমাদের অপেক্ষায় নোঙ্গর করে জলে ভেসে আছে। 

সুনামগঞ্জের কয়েকজন সুহৃদ ব্যক্তি নৌকায় আদর আপ্যায়ন করতে আমাদের সাথে ছুটলেন। সুরমা নদীর দক্ষিণপারে সুনামগঞ্জ শহর, এবার গয়না নৌকাটি আমাদেরকে নদীর উত্তরপারে যাদুকাটা নদীর মিলনস্থলে নিয়ে হাজির হল। গয়না নৌকাটি বেশ বড়, ছইয়ের নিচে দুইদিকে বসার চেয়ার বসানো, মাঝখান দিয়ে দুই গলুইয়ে চলাচলের সরু রাস্তা। গলুই হতে মই বেয়ে ছইয়ের ছাদে উঠে দেখি সেখানেও বেশ কিছু চেয়ার পাতা রয়েছে। আমি সবুজ কার্পেটে ঢাকা ছাদের উপর একটি চেয়ারে বসলাম। তখন ছিল বর্ষাকাল, যাদুকাটা নদী জলে থৈ থৈ করছে। নদীর জল উপচে উঠে দুই তীর জলে ভাসিয়ে দিয়েছে। নদীপারের জনপদ জলে এমনই নিমজ্জিত যে কেবল ভিটেমাটি কোনমতে ভেসে আছে। জলেডুবা রাস্তায় মানুষ লুঙ্গি হাঁটুতে তুলে চলাচল করছে। এত জল, জল আর জল, চমৎকার জলের বাহার। এযে সুনামগঞ্জের নয়নাভিরাম ভাটি অঞ্চল। 

যাদুকাটা বাংলাদেশের একটি অতি সুন্দর নদী। শীতকালে এই নদীর উজানে জলে রামধনুর সাতরঙ দেখা যায়, তাই তাঁর নাম হয়ে যায় যাদুকাটা। যাদুকাটা নদীতে সারিসারি বালি ও পাথরের লম্বা লম্বা কাঠের নৌকা একটার সাথে অন্যটা দড়ি বেঁধে দশবারটি নৌকার ঐক্যজোট তৈরি করে মাঝিরা বেয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এযেন ট্রেনের কয়েকটি বগির একত্র সংযোজন। এবার একটি বড় খালপথে আমরা শনির হাওরে প্রবেশ করলাম। জলভরা হাওয়ের একস্থানে বিশাল গয়না নৌকাটির তলা ঠেকে গেল। আমাদের সুনামগঞ্জের সুহৃদগণ জলে নেমে নৌকায় দড়িবেঁধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক টানাটানি করে নৌকাটিকে শনির হাওয়ের কূলহীন জলরাশিতে ভাসিয়ে দেন। 

শনির হাওর এবং টাঙ্গুয়ার হাওরের সীমারেখা আমাদের জানা নেই। সুনামগঞ্জের বন্ধুরা একসময় বললেন আমরা এখন টাঙ্গুয়ার হাওরে ভাসছি। একের পর এক আফাল (বড় ঢেঊ) এসে ছপাৎ ছপাৎ করে নৌকার গায়ে আড়ে পড়তে থাকে। তখন আমি বুঝতে পারলাম হাজার বছরেরও আগে শ্রীহট্টে ভ্রমণ করতে আসা বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক ও ভিক্ষু হিউয়েন সাং কেন চিনাভাষায় লিখিত তার ভ্রমণকাহিনীতে বলেছিলেন, শ্রীহট্টের পশ্চিমে সাগর রয়েছে, শ্রীহট্ট সমুদ্রপারের জনপদ। তিনি হয়ত কোন এক বর্ষাকালে সিলেটের পশ্চিমে গিয়ে এই ভাটির দিগন্তহীন জলে সাগরের গর্জন ও তরঙ্গমালা দেখে যান। 

টেকেরঘাট রেস্টহাউসের প্রান্তরে আমদের গয়না নৌকা এসে নোঙ্গর করল। এবার আমরা হাফপেন্ট পড়ে টাঙ্গুয়ার মায়াবী জলে সাঁতার কাটতে ঝাঁপ দিলাম। পরিস্কার পানি নয়ন মুগ্ধ করলেও সাঁতার কাটতে গিয়ে বুঝলাম সবুজ শেওলার কি ভীষণ যন্ত্রণা। সারাটা শরীর সবুজে পিচ্ছিল হয়ে গেল। আমাদের মুরুব্বী আব্দুল করিম স্যারও বেশ আগ্রহ নিয়ে সাঁতারে নামলেন, কিন্তু বয়সের কারণে একটু সাঁতরেই হাঁফিয়ে উঠলেন। বহুকাল পর ফয়সল আহমদ, মাহবুব আহমদ, ফারুক আহমদ, মামুন বখত স্যার ও আমি বেঘুরে সাঁতার দিলাম। 

ফয়সল আহমদ বললেন শৈশবে তার বাবা জাঊয়াবাজার জনতা ব্যাংকের ম্যানেজার ছিলেন। জাউয়াবাজারের চারপাশের অথৈ জলে সাঁতার কেটে তার ছোটবেলা কেটেছে। আমি বললাম বাড়ির সামনে আমাদের বাড়ির প্রাচীন দিঘি, যেখানে ডুবসাঁতার দিয়ে আমার বাল্যকালের গ্রীষ্মের দুপুরবেলা কাটিয়ে দিতাম। 

টেকেরঘাট রেস্টহাউস আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানাতে তৈরি ছিল। ভারতের মেঘালয়া রাজ্যের সুউচ্চ পাহাড়ের পাদদেশে অপূর্ব সুন্দর স্থানে এই রেস্টহাউস। এই রেস্টহাউসের উত্তরে মাইলখানেক উচু আকাশছোঁয়া সারি সারি  পাহাড় এবং দক্ষিণপাশে টাঙ্গুয়ার বিশাল জলরাশি সাগরের বিশালতা নিয়ে দণ্ডায়মান। চারপাশে বাগানঘেরা পাকাটিনের রেস্টহাউসের বাবুর্চিরা আমাদের জন্য রান্নাবান্না করেন। এখানে এসে ভাটির জাতক টেকেরঘাট শাখার ব্যবস্থাপক ধূর্জটি প্রসাদ ভট্টাচার্য্য এবং মাহিম উদ্দিন আমাদেরকে বরণ করেন। দুপুরে মাছ ও মাংসের বেশ কয়েক আইটেমের ভূরিভোজ হল। ধূর্জটি প্রসাদ ভট্টাচার্য্য এই রেস্টহাউসে আমাদেরকে সব ধরনের সুখানন্দ দিতে আন্তরিকতার সাথে কাজ করেন।   

সেদিন আকাশ ছিল একটু মেঘাচ্ছন্ন, ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি লাগছিল। রাতের আগমনে আকাশ আলোকিত করে চাঁদে ও মেঘে লুকাচুরি খেলা লেগে যায়। বাদমাগরিব চাঁদনী রাতের ভরাপূর্ণিমা উপভোগ করতে আমরা আবার গয়না নৌকায় চড়লাম। সুশীতল হাওরি বাতাসে সব অস্বস্তি তখন স্বস্তি ও আনন্দে রূপান্তরিত হলনৌকা হিজল ও করস বৃক্ষের গাঘেঁষে ঘেঁষে শান্ত জলাধারে রাজহাঁসের মত ভেসে ভেসে সাঁতার কাটতে থাকে। আকাশের পূর্ণিমার চাঁদ তখন জলের ঢেউয়ে প্রতিবিম্ব ফেলে জলতলে অজস্র চাঁদে পরিনত হয়। 

নৌকায় বসে আমি নোঠখাতায় চারলাইন কবিতা লিখলাম- ‘ভাটিদেশে বরুন ফোটে, জলেতে করচ তুলে শির,/ টাঙ্গুয়ার ঢেউয়ে ভাসে বুনোহাঁস, বক বাঁধে নীড়।/ পূর্ণিমার রাতে ঢেউভেঙ্গে মুখহাসে চাঁদ রূপালির,/ অজস্র পরিযায়ী পাখি, ভাসমান ডালে রচে ভিড়’। 

হাওরের মধ্যে মধ্যে কয়েক স্থানে খুটি দিয়ে জলের মধ্যে তৈরি পাকা আনসার ক্যাম্প দেখলাম। বেশ নিচে পানি, মইয়ের মত সিড়ি বেয়ে উপরে মাচাং দালানে নির্মিত এইসব ক্যাম্পে শৌচকর্ম ব্যবস্থা খুবই অস্বস্তিকর। এই আনসাররা একজন ম্যাজিস্টেটের নেতৃত্বে বিশ্বঐতিহ্য এই টাঙ্গুয়ার হাওর পাহারা দেন। তারা এখানে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র রক্ষায় দিনরাত কাজ করে যান। 

ফেরার সময় গভীর রাতে আমরা টেকেরঘাটের একজন ধনী ব্যবসায়ীর মেহমান হলাম। তিনি আমাদের টেকেরঘাট শাখার গ্রাহক। তিনি পুবালী ব্যাংকে এলসি করে টেকেরঘাট স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি করে থাকেন। তার জলে ভাসমান দুতলা পাকাবাড়ি। জেনারেটরের তৈরি বিদ্যুতে এই বাড়িতে আলো ঝলমল করছে। ঘাটে একটি স্পিডবোট বাঁধা। এখানে ভারী চানাস্তা হল। টেকেরঘাট রেস্টহাউসে এসে আবার টেবিলে খাবারের ছড়াছড়ি, অথচ কারো পেটে কোন খিদে নেই। সবাই বসলেন, যে যা পারেন খেয়ে উঠলেন। আমাদের দুইজন বিগবস মামুন বখত ও আব্দুল করিম চৌধুরী স্যারকে একটি পালংকে শোয়ায়ে মশারি টাঙ্গিয়ে দেই। এবার রেস্টহাউসের পাকা মেঝেতে আমরা পনের বিশ জনের শোবার আয়োজন করলাম। গ্রীষ্মের এই গরম রাতে আমরা এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ঘুমের স্বাধ নিলাম। পাকামেঝে ভালভাবে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে চাদর বিছানো হল। বালিশ হিসাবে আমাদের ছোট ছোট ব্যাগ মাথার নিচে ব্যবহার করলাম। মশার হাত হতে বাঁচতে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া হলছাদে ঝুলে সশব্দে ঘুরছে বৃটিশ আমলের বড়বড় কয়েকটি সিলিং ফ্যান। আমি ও মাহবুব আহমদ পাশাপাশি শোয়ে গেলাম। সারাদিন ভ্রমণ ও সাঁতার কেটে পরিশ্রান্ত হওয়ায় শোয়ামাত্রই গভীর ঘুমে সবাই হারিয়ে গেলাম। পরদিন বেশ বেলা করে উঠে সারা গায়ে বেশ জ্বালা অনুভব করি। বুঝলাম মশার কয়েল জ্বলে নিঃশেষ হয়ে গেলে মশারা উড়ে এসে মহানন্দে রক্তপান করে তাদের জনম ধন্য করেছে। 

রেস্টহাউসের একজন বুড়ো কর্মচারী তার ছোটবেলার কাহিনী বললেন, সেকালে ভারতের সুউচ্চ পাহাড় হতে গ্রীষ্মকালে যখন ঝাঁকে ঝাঁকে এক ধরনের মশা নেমে আসত, তখন দেখা দিত ম্যালেরিয়া মহামারি। চিকিৎসক ছিলনা, ঔষধ ছিলনা। মানুষ মশার কামড়ে বেঘোরে প্রাণ হারাতো। কেউ কেউ দূর গাঁয়ে পালিয়ে যেত। একবার তার গ্রামের অর্ধেকের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় মারা যান। কবর খোড়ার মত মানুষ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। 

আমরা পায়ে হেঁটে ভারতের সীমান্তরেখার স্মারক চকমকি পাথরের কাছে পৌঁছে গেলাম। সুদূরে প্রায় অর্ধ মাইল উপরে পার্বত্য পথে বিএসএফ সিপাইকে বন্দুক হাতে টহল দিতে দেখলাম। তারা আমাদের প্রতি যেন নজর রাখছে। তারা গুলি বর্ষণ করলে আমরা সবাই এই নিম্নভূমিতে শেষ হয়ে যাবো। এবার আমরা টেকেরঘাট স্থলবন্দর পর্যবেক্ষণ করে সীমান্তের কাছাকাছি চুনাপাথরের খনিতে গিয়ে উপস্থিত হই। এই খনির চুনাপাথর তারপথে ছাতকে নিয়ে সিমেন্ট তৈরি করা হয়। এখানে খনি হতে চুনাপাথর উঠানোর ফলে এক বিশাল নীল জলের হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির জলের মত স্বচ্চছ পরিষ্কার এই নীল পানি নাকি কেউ কেউ বললেন বিশ্বের সেরা খনিজ মিনারেল ওয়াটার। পাহাড়ঘেরা এই সুন্দর পর্যটন লেকের নাম বেশ কাব্যিক, নীলাদ্রি লেক। 

এবার ব্যবসায়ীর স্পিডবোটে বসে আমি ও মামুন বখত স্যার মহানন্দে টাঙ্গুয়ার অসীমতায় হারিয়ে গেলাম। বাকিরা আমাদের পিছনে পিছনে গয়না নৌকায় সবাই অনুগামী হন। আব্দুল করিম চৌধুরীকে টাঙ্গুয়ার হাওরের এক বিশাল রুইমাছ উপহার দিতে সুনামগঞ্জ শাখার একজন ব্যবসায়ী এসে টেকেরঘাট রেস্টহাউসে হাজির হন। আব্দুল করিম স্যার বললেন, আমি একা মানুষ একা থাকি, এত বড় মাছ দিয়ে আমি কি করব, না না আমি নেবনা, মাছটা দয়া করে ফেরত নিয়ে যান।

ব্যবসায়ী নাছুড়বান্দা, পেরে উঠতে না পেরে করিম স্যার অবশেষে বললেন, আপনি যখন ছাড়বেনই না, তাহলে একটি কাজ করুন, মাছটি কেটে আমার ম্যানেজারদের মধ্যে ভাগ করে দেন। মাছটি কেটে ভাগ করে আলাদা আলাদা ব্যাগে ভরা হল। প্রতি ভাগে দেড়দুই কেজি করে এই সুস্বাধু রুইমাছ আমরা সবাই নিজনিজ বাসায় নিয়ে গেলাম। কেবল বাদ পড়লেন আমাদের মহান বিগবস মহাব্যবস্থাপক আব্দুল করিম চৌধুরী, কারণ এখানে যে তাঁর কোন রাধুনী নেই।। 

আমরা টাঙ্গুয়ায় গেলাম যাদুকাটা নদীপথে উজান বেয়ে আর ফিরলাম পরদিন বিকেলে ভাটির টানে। রোববার অফিসে বসতেই বরইকান্দি শাখার ব্যবস্থাপক ফারূক আহদের ফোন পাই। কোরেশী ভাই, আমার কাছে আপনাদের রাখা ফান্ডের একটি টাকা খরচ হয় নাই। সুনামগঞ্জের ম্যানেজার দেবাশীস বাবু টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণেসমুদয় খরচপাতির ব্যবস্থা করেছেন। অথচ এই আড়াই হাজার টাকা চাঁদার ডাক শুনে অনেক ব্যবস্থাপকই টাঙ্গুয়ায় যাননি। নিশ্চয়ই যারা যাননি তাঁরা ভাগ্যহীন এবং আমরা ভাগ্যবান কার বিনে জরিমানায় দুইদিনের এক গর্জিয়াস আনন্দভ্রম আমাদের লক্ষী ভাগ্যে জোটে যায়।    

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন