দুই
সহস্রাব্দ মধ্যরাত্র ১২টা বেজে “০” সেকেন্ডঃ
২০০০ সাল আগমনের পুর্বক্ষণে সারা বিশ্বে রটে গেল ৩১শে ডিসেম্বর রাত ১২ঘটিকা শেষ হওয়ামাত্রই “০” (শুন্য) সেকেন্ডে মিলোনিয়াম ভ্রান্তি সংঘটিত হতে পারে। এতে সফটওয়ার বিভ্রাট হয়ে বিশ্বের কম্পিউটারসমুহ বিকল হয়ে যেতে পারে। এই ধারণা বিশ্বের বেশ কিছু নামিদামি আই টি কোম্পানি হতে জারি করা হয় এবং সাবধান থাকতে বলা হয়। আমি এই বিপদ হতে রক্ষা পেতে আমার হিসাবে সামান্য যে টাকা ছিল, এইদিন তা তুলে নিয়ে বাসায় রেখে দেই।
১৯৯৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর রাতে আমরা সিলেট শাখায় বার্ষিক সমাপনী কাজে ব্যতিব্যস্ত সময় পার করি। এই রাতে ব্যাংকের এম ডি হতে আরম্ভ করে শাখা ব্যবস্থাপকরা পর্যন্ত সবাই দারুণ উৎকণ্ঠায় ছিলেন না জানি কম্পিঊটারে কি যে হয়ে যায়। সেই অধীর উৎকন্ঠার রাতে ১২টা বাজার পর দেখা গেল ব্যাংকের কম্পিঊটারে কোন সমস্যাই হয়নি, কম্পিউটার ঠিকমত কাজ করছে। তখন সবাই হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন, সবার মুখে মিষ্টিহাসি দেখা গেল।
পৃথিবীর সবদেশে শহরে শহরে মধ্যরাতে ১২ ঘটিকার পরক্ষণে মানুষ নুতন সহস্রাব্দ বরণে আনন্দ উৎসব মেতে উঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে সহস্রাব্দবরণ অনুষ্ঠান পালনে তরুণতরুণীদের ভিড়ে ঢুকে বখাটেরা বেশকিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়।
অলীক ও অদ্ভুদ শত শত ভবিষ্যৎবানী পৃথিবীর সবগুলো ধর্মেই রয়েছে। সাধারণ মানুষ সেগুলো মনেপ্রাণে বিশ্বাসও করে। খৃষ্টানদের বিভিন্ন উপসম্প্রদায়ের লোকজন মনে করত ২০০০ সাল পৃথিবীর শেষবছর, এই বছর সমাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে কিয়ামত শুরু হবে এবং পৃথিবী ধবংস হয়ে যাবে। তাই খৃষ্টান দেশসমূহে সারাটা ডিসেম্বর মাস জুড়ে জীবনের শেষবারের পানাহার ও আনন্দ উৎসব চলে।
ঐদিন মহাউৎকন্ঠায় রাত ১২টা ০ সেকেন্ড পেরিয়ে গেলেও মহাপ্রলয় হলনা, এসব ভবিষ্যৎবানীর ধারক ও বাহক ধর্মযাজকদের মুখে চুনকালি পড়ল। বিভিন্ন ধর্মীয় ভবিষ্যৎবাণীর সেই ভয়ংকর কেয়ামত না হওয়ায় এই সুন্দর পৃথিবী আপাতত মানবজাতিসহ সেদিন রক্ষা পেয়ে গেল, আমরাও অকালমৃত্যুর হাত থেকে প্রাণে বেঁচে এই ভবসংসারে টিকে গেলাম।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন