ল্যান্ডফোন পেতে এই প্রথম একজন ঠগের পাল্লায় পড়লামঃ
পবিত্র রমজানের কোন একদিন রোজা রেখে সিলেট শাখায় আমার টেবিলে বসে কাজ করছি। এমন সময় সামনে কালো লিকলিকে বয়স চল্লিশের কোঠার একজন মানুষের আবির্ভাব ঘটে। মুখে ধুর্তের হাসি নিয়ে লোকটা আমার সামনে বসে সবার সাথে নানা খোশগল্পে লিপ্ত হয়। এমনভাবে কথা বলছে যেন অফিসের অনেকের কাছে সে সুপরিচিত একজন। আমি কথা প্রসঙ্গে বললাম অতি দরকার সত্বেও অনেক দৌড়ঝাঁপের পরও বাসায় টেলিফোন আনতে পারছিনা। সাথে সাথে এই লোকটা বলল টি এন্ড টি বিভাগে সে চাকুরী করে, কর্মচারি ইউনিয়নের নেতা এবং টি এন্ড টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তার খুব ঘনিষ্ঠ লোক। লোকটা বলল, এটা একদম সহজ কাজ, অনেক লোককে আমি হাতে হাতে টেলিফোন বের করে দিয়েছি। আমাকে দুই হাজার টাকা দিলে ঢাকায় গিয়েই চেয়ারম্যান স্যারের সাথে দেখা করে সাথে সাথে টেলিফোন সংযোগ করে দিতে পারব।
লোকটা আমার পাশের টেবিলের শফিক ভাইয়ের সাথে এত ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলছিল যে আমার মনে হল সে তার বন্ধু কিংবা আত্মীয়। তাছাড়া পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে কেঊ মিথ্যাচারিতা করবে সন্দেহ হলনা। তখন মোবাইল ফোনের প্রচলন ছিলনা, তাই ল্যান্ডফোন আমার অবশ্য প্রয়োজন, বছর দিন ধরে সিলেটের টি এন্ড টি অফিসে দৌড়ে জান শেষ। আমি তার ফোন নম্বার রাখলাম এবং তাকে এতই বিশ্বাস করলাম যে কারো সাথে কোন ধরনের পরামর্শ না করেই তার হাতে ফোনের আবেদনপত্রের অনুলিপি এবং দুই হাজার টাকা তুলে দিলাম।
লোকটি উদাও হওয়া
মাত্রই আমি আবু শফিক ভাইকে বললাম এই লোকটাকে আপনি নিশ্চয় চেনেন? তিনি বললেন, না, এই প্রথমবার দেখেছি। পাশের সুধীর কুমার বাবুকে বললাম, দাদা আপনি চিনেন, না আগে তাঁকে কখনো দেখিনি। সাথে
সাথে আমি লোকটার প্রদত্ত নম্বারে তাকে ফোন করলাম, জবাব পেলাম এনামের কেউ এই নম্বারে
নেই, ভূল নম্বার। জীবনে
এই প্রথম কোন অচেনা ঠগের খপপরে পড়লাম রে বাবা। পোড়া কপাল আমার, দুই হাজার টাকা আক্কেল সেলামি দিয়ে রমজানের পবিত্র
বিকেলে মনমরা হয়ে আমি বাসায় ফিরলাম। ১৯৯৬ সালের দুই হাজার টাকা মানে আজকের দশ হাজারের কম তো হবেনা নিশ্চিত। এমন বোকামি করলাম, যা কাউকে না যায় বলা, না যায় সহা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন