শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

হজরত শাহদাউদ কুরেশি(রঃ) হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার কাহিনি

 

হজরত শাহদাউদ কুরেশি(রঃ) হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার কাহিনি

এই দুইসহস্রাব্দে আমাদের দাউদপুর গ্রামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান  হজরত শাহদাউদ কুরায়শী(রঃ) হাফিজিয়া মাদ্রাসার জন্ম হয়। আমার পিতা সফিকুর রহমান চৌধুরী এব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় পৈত্রিক ভুমি দান করেন আমার বংশীয় প্রতিবেশী বাড়ির চাচা ডাঃ আব্দুল হক চৌধুরী। অসুস্থ্য চাচা একদিন আব্বাকে তার বাসায় ডাকেন। আব্বা এবং আমি তাকে দেখতে গেলে মাদ্রাসার কাজের জন্য তিনি একলক্ষ টাকার একটি চেক আব্বার হাতে তুলে দেন। ছাব্বিশ বছর আগের একলক্ষ টাকা মানে বর্তমান সময়ের আটদশ লক্ষের কম তো হবেনা নিশ্চিত। তিনি জমি দেন, সাথে শুভসুচনার খোরাকও এগিয়ে দেন। 

দক্ষিণবাড়ির জমিজামা দেখাশুনা করতেন আপ্তাব আলী নামের মাঝপাড়ার একজন লোক, যিনি একসময় ইউনিয়ন মেম্বার ছিলেন। আপ্তাব আলী জীবিতবস্তায় এখানে তাঁর কবরের জায়গা চেয়ে নেন। এই কবরের জন্য উত্তরদিকে বেশ কিছু জায়গা বাদ দিয়েই মাদ্রাসার নির্মাণকাজ করা হয়। 

আমি ডাক্তার চাচাকে বললাম এই মাদ্রাসায় আপনাদের কারও নাম ঢুকানোর ইচ্ছে আছে কি? তিনি জবাব দেন, সব ধরনের দান খয়রাত গোপনে ফিসাবিলিল্লাহ করাই ভাল। আল্লাহর নবি(সঃ) বলেছেন ডানহাতে দান করলে বামহাতে, আবার বামহাতে দান করলে ডানহাতে যেন জানতে না পারে। 

দাউদপুর ঈদগাহের উত্তরদিক ও পশ্চিমদিকে আমাদের বংশের দক্ষিবাড়ির দানকৃত ভুমিতে আমার পিতা সফিকুর রহমান চৌধুরী পাকা মাদ্রাসার নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মাদ্রাসা হয়ে যায় ইংরেজি অক্ষর এল আকৃতির স্থাপনা, যার সামনের আঙ্গিনা দাউদপুর ঈদগাহ ময়দান। দক্ষিণবাড়ির ডাঃ আব্দুল হক চাচার ভাতিজা আলমগীর কুরেশি সিএন্ডবি সড়কের পাশে হাড়িয়ারচরে ১৫ ডেসিমেল মূল্যবান জমি এই মাদ্রাসায় দান করেন। উক্ত জায়গায় বাসা বানিয়ে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা মাদ্রাসার স্থায়ী আয়ের একটি উৎস। পরবর্তীকালে আমাদের বংশীয় পশ্চিমবাড়ির মইনউদ্দিন কুরেশী ওরফে আনজির মিয়া মাদ্রাসাটির দুতলা ভবনের নির্মাকাজ সম্পন্ন করে দেন। আনজির মিয়া ডাঃ আব্দুল হক চৌধুরীর আপন ভাগ্না। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন